Header Ads Widget

আমতলীতে সংস্কারের অভাবে যে কোন সময় ইউপি ভবন ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা!




হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লক্সে ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ন হয়ে পরেছে। ভবনটি এতই নড়বরে হয়ে পড়েছে যে কোন সময় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় মানুষ ও জন প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে ৩৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি অফিস বাজার এলাকায় নির্মাণ কর হয়। ভবনটি নির্মাণের পর থেকে অদ্যবদি কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। সংস্কারের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। ছাদ, দেয়াল ও পিলারের পলেস্তারার খসে পড়েছে। বর্ষার সময় ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। কাঠের দরজা জানালাগুলো অনেক আগেই পোকায় খেয়ে নষ্ট করে ফেলায় খুলে পড়ে যাচ্ছে। স্টীলের দরজাগুলো মরিচা ধরার কারনে এখন আর আটকানো যাচ্ছে না। সংস্কারের অভাবে ভবনটি এতই দুর্বল হয়ে গেছে যে ভবনের দোতালায় উঠলেই কাঁপনি শব্দ হতে থাকে। এ কারনে ভয়ে এখন আর কেহ ওই ভবনে ওঠার সাহস করে না। দরজা জানালা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে অফিসের চেয়ার টেবিল স্টীলের আলমিরা থেকে শুরু করে সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওই ভবনে চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যরা অফিস করতে পারছে না। ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা জণসাধারনরাও এখানে এসে বসতে না পারায় মাঠে কিংবা সামনের চায়ের দোকানে বসে কাজকর্ম সারেন।



দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের মোশারফ হোসেন মোল্লা বলেন, এখন আমরা ইউপি ভবনে উঠতে ভয় পাই। ভবনের অবস্থা এতডাই খারাপ কোন সময় না আবার ভাইঙ্গা পড়ে এই ভয়ে।

কাঁঠালিয়া গ্রামের রফেজ বলেন, ভবনের দোতলায় উঠতে গেলে কাঁপতে থাকে। হেই ভয়ে নীচে বইয়া চেয়ারম্যান মেম্বারেগো লগে কামকাজ হইর‌্যা চইল্যা আই।

অফিস বাজারের স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি অনেক আগে নির্মাণ করেছে। তারপর আর কোন সংস্কার করা হয় নাই। এ্যাহন ওই ভবনের অনেক জায়গা দিয়া পলেস্টার উইড্যা গ্যাছে। বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়া পানি পরে। দোতলায় উঠলে মনেহয় ভবনটি লড়তে আছে। হেইর লইগ্যা মোরা ওই ভবনে উঠি না।

ইউপি সদস্য সেতু মল্লিক ও মোঃ আবু সালেহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ। ভয়ে আমরা কেউ এখন আর ওখানে বসি না। জনগনের সেবার জন্য আমরা ওই ভবনের আশে পাশের দোকানে বসে কাজ সারি।

হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক মুঠোফোনে বলেন, ২০০৪ সালে ভবনটি নির্মাণ করার সময় নি¤œমানের কাজ করেছেন ঠিকাদার। নির্মাণের অর থেকে আজ পর্যন্ত কোন সংস্কার না করায় ভবনের ভিতরের পলেস্তারার খসে পরেছে। দরজা জানালা নেই। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পরে। সাধারন মানুষ সচিব ও সদস্যরা ভয়ে কেউ এখন আর ভবনের ভিতরে বসতে চায় না। যে কোন সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে। ভবনের দুরবস্থার কথা এলজিইডির প্রকৌশলী ও আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভবনটির সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্ধ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আবদুল্লা বিন রশিদ বলেন, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটির দুরবস্থার কথা শুনে সরেজমিন পরিদর্শন করি। ভবনটি সংস্কার করা প্রয়োজন। এটি সংস্কারের জন্য এলজিইডিকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ