Header Ads Widget

বরগুনার আমতলীতে অযত্ন অবহেলায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি এ্যাম্বুলেন্স ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছে


বুধবার,৩০ মার্চ ২০২২
হায়াতুজ্জামান মিরাজ,
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ


আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩০ লাখ টাকা মূল্যের পুরাতন দুটি এ্যাম্বুলেন্স মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী না করা, অযত্ন  অবহেলায় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ ফেরত না নেওয়ায় এখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে হাসপাতালের মাঠের মাটিতে মিশে যাচ্ছে।


আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আমতলী হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবার কথা বিবেচনা করে সরকার ১৯৯৭ এবং ২০০৩ সালে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করে। এ্যাম্বুলেন্স দুটি ২০১০ সালের দিকে নষ্ট হলে ওই বছরই আরেকটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয় আমতলী হাসপাতালে। এ্যাম্বুলেন্স দুটি নষ্ট হওয়ার পর আর কোন মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে ধীরে ধীরে সম্পূর্ন অকেজো হয়ে যায় এ্যাম্বুলেন্স দুটি।


অপরদিকে নতুন এ্যাম্বুলেন্স আসার পর গ্রেজে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পুরাতন এ্যাম্বুলেন্স দুটি গ্রেজ থেকে বাহিরে বের করে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। একটি হাসপাতালের মূল ভবনের পিছনে মাঠের মধ্যে এবং আরেকটি চতুর্থ শ্রেণির আবাসিক ভবনের সামনে বাগানের গাছের নীচে ফেলে রাখা হয়। ফলে ঝড় বৃষ্টি রোদে পুরে এ্যাম্বুলেন্স দুটি স্থায়ী ভাবে অকেজো হয়ে কাঁদা এবং বৃষ্টির পানিতে এ্যাম্বুলেন্সের লোহার অংশ ইঞ্জিন এবং চেসিসে মরিচা ধরে তা সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। অতি রোদের তাপে রাবার এবং প্লাস্টিকের মালামালও নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন মাঠে পড়ে থাকায় পেছনের কাঁচ খুলে পড়ে গেছে। কাঁচ না থাকায় শিশুরা অহরহ ভিতরে প্রবেশ করে অকেজো গাড়ি দুটিকে খেলনায় পরিণত করেছে। শিশুরা সিটের ফোম ছিড়ে নিয়ে গেছে। এখন শুধুই হাড্ডি কঙ্কালসার গাড়ি দুটি মাঠের মধ্যে পড়ে রয়েছে।  


আজ (বুধবার) সকালে সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, এ্যাম্বুলেন্স দুটির একটি মাঠের কাঁদায় আমগাছের নীচে পড়ে আছে। আরেকটি চতুর্থ শ্রেণির আবাসিক ভবনের সামনের সড়কের পাশে গাছের নিচে পড়ে রয়েছে। এতে গাড়ি দুটি মরিচা ধরে টায়ার, কাঁচ, স্টিয়ারিং, সিটের ফোমসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন মাঠের মধ্যে হাড্ডি কঙ্কালসার গাড়ি দুটি পড়ে রয়েছে।   
আমতলীর সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যক্তিরা বলেন, এভাবে উদ্যোগের অভাব ও অযত্ন  অবহেলায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের এ্যাম্বুলেন্স দুটি নষ্ট হবে এটা আমরা কামনা করি না। সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে এ্যাম্বুলেন্স দুটি সারানো হলে সরকারের অনেক টাকা বেঁচে যেত এবং সেবা পেত অনেক দরিদ্র রোগীরা। 

আমতলী হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক আঃ আব্দুল জলিল জানান, এ্যাম্বুলেন্স রক্ষনা বেক্ষন ও সংস্কারের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মহাখালীতে অবস্থিত কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার লাইন ডিরেক্টর। এ্যাম্বুলেন্স দুটি অকেজো হওয়ার পর অনেকবার তাদেরকে জানানো হয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত গাড়ি দুটি ফেরত নেয়নি। এখন গাড়ি দুটি খোলা আকাশের নিচে মাঠের মধ্যে রোদ, বৃষ্টি, কাঁদায় সম্পূর্ন অকেজো হয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে মাটিতে মিশে রয়েছে। 


আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মুনয়েম সাদ বলেন, গাড়ি দুটি বাতিল ঘোষণার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঢাকা মহাখালীর লাইন ডিরেক্টর উপজেলা হেলথ কেয়ার (ইউএইচসি) উপ-পরিচালক ডাঃ হাসিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জন যানবাহন ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা (ট্রান্সপোর্ট এন্ড ইকুইপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশন) মাধ্যমে গাড়ি দুটি বাতিল ঘোষণা করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রয়ের উদ্যোগ নিতে পারবেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ